ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানের পাতা শুকিয়ে বিবর্ণ, কীটনাশকেও মিলছে না প্রতিকার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০৩:০৭:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০৩:০৭:৫৪ অপরাহ্ন
ধানের পাতা শুকিয়ে বিবর্ণ, কীটনাশকেও মিলছে না প্রতিকার ছবি : সংগৃহীত
সবুজ ধানগাছের পাতাগুলো প্রথমে বিবর্ণ, এরপর শুকিয়ে যাওয়ায় তা দেখাচ্ছে আগুনে পোড়ার  মতো। কোথাও জমির একাংশ, কোথাও প্রায় পুরো ক্ষেত আক্রান্ত। এমন অবস্থায় দিশাহারা কুড়িগ্রামের কৃষক। 

সম্প্রতি রাজারহাট, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেতে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

কৃষকদের অভিযোগ, রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত প্রতিকার না পাওয়ায় আক্রান্তের পরিমাণ বাড়ছে। অন্যদিকে কৃষি বিভাগের দাবি, মাঠপর্যায়ে তদারকি করে আক্রান্ত জমিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মিলিবাগ বা ছত্রাকজাতীয় পোকার আক্রমণ, খরা ও অতিরিক্ত সার প্রয়োগকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগ।
 
রাজারহাট উপজেলার উমরমসজিদ ইউনিয়নের মুক্তারপাড়া গ্রামের কৃষক নূর আলম বলেন, ধানগাছ ভালোই ছিল। হঠাৎ পাতা বিবর্ণ হয়ে গাছ শুকাতে শুরু করেছে। থোড় (ধানের কচি শিষ) আসার আগেই এমন অবস্থা হওয়ায় ফলন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

নূর আলমের ভাষায়, চোখের সামনে ধান গাছ  শুকিয়ে যেতে দেখে এখন কী করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।

একই উপজেলার ফরকেরহাট গ্রামের কৃষক ইলিয়াসের ক্ষেতেও একই অবস্থা। তিনি জানান, ধানগাছ শুকিয়ে যাওয়ায় এবার ফলন কতটা হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তার।

উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, তার জমির ধানের পাতাও শুকিয়ে যাচ্ছে।

থোড় আসার আগেই গাছের এমন দশা দেখে তিনি হতাশ। ধান রক্ষা করতে এখন কৃষি বিভাগের পরামর্শের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, আক্রান্ত অংশে ধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই আক্রান্ত ধানগাছ দ্রুত কেটে ফেলে পুরো জমিতে নির্ধারিত মাত্রায় অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে বাকি ধানগাছ রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিন বলেন, সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শনে কোথাও মিলিবাগ বা ছত্রাকজাতীয় পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। আক্রান্ত স্থানে ধান হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় কৃষকদের ওই অংশ কেটে ফেলে পুরো ক্ষেতে নির্ধারিত মাত্রার কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে বাকি ধান গাছ রক্ষা করে কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে এক লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। তবে পোকা ও রোগে আক্রান্ত জমির পরিমাণ এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।

 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ